সূচিপত্র / শক্তি তন্তু তত্ত্ব (V6.0)
I. আলো কী: শূন্য-মাধ্যমের উপর “ক্রিয়া-রিলে”
অনেকের কাছে “আলো” প্রথমেই কঠিন লাগে—সমীকরণ জটিল বলে নয়, মাথায় আগে থেকেই এক ধরনের ছবি বসে থাকে বলে। যেন মহাবিশ্বের শূন্যস্থান একখানা ফাঁকা কাগজ, আর আলো সেই কাগজের ওপর ছোট ছোট বলের মতো উড়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু একটা প্রশ্ন করলেই সেই ছবি নড়ে যায়—ওটা “উড়ছে” কোন কিছুর ওপর ভর করে? পাথর গড়াতে মাটি লাগে, শব্দ পৌঁছাতে বাতাস লাগে; তাহলে আলো ছায়াপথের মাঝের অন্ধকার পার হয় কিসের ভরসায়?
শক্তি তন্তু তত্ত্ব (EFT)-এর দৃষ্টিতে উত্তরটা নতুন কোনো “রহস্যময় কণা” যোগ করা নয়; আগে ভিত্তিটাই ঠিক করা। শূন্যস্থান খালি নয়—ওটা একটানা শক্তি সমুদ্র। সে সমুদ্র সর্বত্র; নক্ষত্রমধ্যবর্তী ফাঁকও ভেদ করে, আমাদের দেহ ও যন্ত্রের মধ্য দিয়েও যায়। আমরা “অনুভব” করি না, কারণ আমরা নিজেরাই ওই সমুদ্রের ভাঁজ পড়া, বন্ধ হওয়া, আর লকিং-এ ঢুকে যাওয়ার পর গঠিত কাঠামো; ভিত্তি এতটাই গায়ে লেগে থাকে যে তাকে সহজেই “ব্যাকগ্রাউন্ড” বলে ভুলে যাই।
তাই প্রথম নীতির ভাষায় আলোকে এক বাক্যে বলা যায়: আলো আসলে উড়ে যায় না; ‘ক্রিয়া’ই রিলে হয়ে এগোয়।
সবচেয়ে সহজ উপমা স্টেডিয়ামের “মানুষ-ঢেউ”। প্রত্যেকে নিজের জায়গায় দাঁড়ায়—বসে, আর একই ভঙ্গিটা পরের সারিতে তুলে দেয়। দূর থেকে মনে হয় একটা “ঢেউ-দেয়াল” দৌড়াচ্ছে, কিন্তু কেউ সত্যি সত্যি গ্যালারির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে দৌড়ায় না। আলোও তেমনই: শক্তি সমুদ্রের কোনো জায়গা নির্দিষ্ট ছন্দে “একবার কেঁপে ওঠে”, সেই কাঁপুনিটা পাশের জায়গায় পৌঁছে যায়, পাশেরটা আবার আরও দূরে—একই “ক্রিয়া-নির্দেশ” সমুদ্রপৃষ্ঠে সারি বেঁধে ঘটতে থাকে।
আরও “হাতে ধরা” উপমা চাইলে—একটা লম্বা চাবুক ঝটকা দিন। বাইরে ছুটে যায় চাবুকের আকার-বদল, চাবুকের কোনো টুকরো বস্তু নয়। আলোও সেই ধরনের “আকার-দৌড়”—শুধু দৌড়ানোর মঞ্চটা শক্তি সমুদ্রের এই বেস-প্ল্যাটফর্ম।
II. কেন ‘তরঙ্গ প্যাকেট’ দিয়ে আলো বোঝা জরুরি: বাস্তব নির্গমনের মাথা-লেজ থাকে
পাঠ্যবইয়ে প্রায়ই অসীম দৈর্ঘ্যের সাইন-তরঙ্গ আঁকা হয়—হিসাব সহজ বলে। কিন্তু বাস্তব জগতে “আলো নির্গমন” প্রায় সবসময়ই একেকটা ঘটনা: কোনো একবারের ট্রানজিশন, একবারের ঝলক, একবারের স্ক্যাটারিং, একবারের পালস। ঘটনা মানেই স্বাভাবিকভাবে শুরু-শেষ আছে।
তাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেশি মেলে “অসীম তরঙ্গ” নয়, বরং তরঙ্গ প্যাকেট—সীমিত দৈর্ঘ্যের একটি পরিবর্তন-প্যাকেট, যার মাথা আছে, লেজ আছে।
তরঙ্গ প্যাকেটকে একবার ডেলিভারি-প্যাকেট ভাবুন: বাক্সে আছে শক্তি, সাথে আছে তথ্য। বাক্সটা চিকন-লম্বা হতে পারে, বা খাটো-মোটা; কিন্তু সীমানা না থাকলে “কখন পৌঁছল, কখন চলে গেল” বলা যায় না।
এখানেই বড় সুবিধা: তরঙ্গ প্যাকেট “প্রচার”কে ট্র্যাক-করার মতো করে তোলে—আগমনের সময়, পালসের চওড়া হওয়া, রূপ-নিষ্ঠা বজায় থাকে কি না, আর “দূরে যাবে নাকি উৎসের কাছেই নিভে যাবে”—এসব প্রশ্ন বাস্তব সমস্যা হয়ে ওঠে।
III. আলোক তন্তু: তরঙ্গ প্যাকেটের ফেজ-কঙ্কাল, যা দূরত্ব আর রূপ-নিষ্ঠা ঠিক করে
তরঙ্গ প্যাকেট কোনো গঠনহীন “শক্তির মেঘ” নয়। শক্তি সমুদ্রে কোনো প্যাকেট দূর পর্যন্ত যেতে পারবে কি না, আর পরিচিত-যোগ্য আকৃতি ধরে রাখতে পারবে কি না—তা অনেকটা নির্ভর করে ভিতরের এক “কঠিন” সংগঠনের ওপর: ফেজ-কঙ্কাল। এটা একদিকে দলবদ্ধ শৃঙ্খলিত ফরমেশনের মতো, অন্যদিকে চাবুক ছোঁড়ার সময় যে “মূল আকাররেখা” আগে কপি হয় এবং সবচেয়ে স্থিতিশীল থাকে—তার মতো।
এই ফেজ-কঙ্কালকে সহজ ভাষায় “আলোক তন্তু” বলা খুব কাজে দেয়। আলোক তন্তু কোনো বস্তু-সুতো নয়; তরঙ্গ প্যাকেটের ভেতরে সবচেয়ে স্থিতিশীল, এবং রিলে-তে সবচেয়ে সহজে নকল হওয়া সংগঠন। এতে তিনটা সরাসরি ফল দাঁড়ায়:
- আলোক তন্তু যত “পরিপাটি”, তরঙ্গ প্যাকেট তত সহজে ফেজ-সামঞ্জস্য ধরে রাখে—এবং তত দূরে যায়।
- আলোক তন্তু যত “অগোছালো”, তরঙ্গ প্যাকেট তত সহজে নিকট-ক্ষেত্রে ভেঙে পড়ে—তাপ, নয়েজ, বা অসংখ্য ছোট প্যাকেটে রূপ নেয়।
- আলোক তন্তুর “দিক” ও “ঘূর্ণনের দিক” ঠিক করে দেয়—কোন কাঠামোর সঙ্গে কপলিং হবে, কোন সীমান্তে গাইড হবে, আর কোন বস্তুতে “খেয়ে ফেলা” হবে।
এখানে “দূরে যেতে পারে এমন আলো”কে একটু ইঞ্জিনিয়ার-স্টাইলে তিনটা শর্তে চেপে ধরা যায় (পরে বারবার লাগবে):
- গুচ্ছ ধরে রাখতে হবে: ফেজ-কঙ্কাল দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
- ঠিক “উইন্ডো” ধরতে হবে: ছন্দ পড়তে হবে সেই পরিসরে যেখানে পরিবেশ প্রচারকে অনুমতি দেয়।
- চ্যানেল মিলতে হবে: বাইরের সমুদ্র অবস্থা যথেষ্ট মসৃণ হতে হবে, বা অন্তত হাঁটার মতো করিডর/তরঙ্গনির্দেশক থাকতে হবে—না হলে দ্রুতই অপচয় হবে।
এগুলো রহস্য নয়: যে কোনো সিগন্যাল দূরে যেতে চাইলে “ফরমেশন ঠিক, ব্যান্ড ঠিক, রাস্তা চলার মতো”—এই তিনটা লাগে।
IV. পেঁচানো আলোক তন্তু: ‘ঘূর্ণি টেক্সচার’ নোজল/এক্সট্রুডার আগে পাকিয়ে, পরে ঠেলে দেয়
এখানে এই অংশের সবচেয়ে শক্তিশালী “চিত্র-হুক”টা আসে: যে কাঠামো আলো বের করে, তার ঘূর্ণি টেক্সচার একধরনের নোজল/এক্সট্রুডারের মতো কাজ করে—আগে পাকিয়ে ‘পেঁচানো’ বানায়, তারপর সেই পেঁচানো তন্তুকে রিলে-তে ঠেলে এগিয়ে দেয়।
ভাবুন পাকানো মিষ্টি বানানো: ময়দা তো একটানা বস্তু, কিন্তু স্পাইরাল-খাঁজওয়ালা নোজল দিয়ে চাপ দিলে বের হয় আর “একদলা ময়দা” নয়—দিক-সহ একখানা পাকানো স্ট্রিপ, যার ভিতরে গঠনও থাকে। মূল কথা: সেই স্ট্রিপকে “রূপ ধরে রেখে ঠেলে দেওয়া” যায়, কারণ ময়দার ভিতরে কোনো জাদু পার্ট নেই—নোজল আগে থেকেই সেটাকে গুছিয়ে দিয়েছে।
শক্তি সমুদ্রে “আলো তৈরি”ও খুব কাছাকাছি:
- উৎসের দিকে থাকা লকিং কাঠামো (কণা, পরমাণু, প্লাজমা-গঠন) নিকট-ক্ষেত্রে শক্তিশালী টেক্সচার ও ঘূর্ণি টেক্সচার সংগঠন তৈরি করে।
- এই সংগঠনটাই “ঘূর্ণি টেক্সচার নোজল” হয়ে, বের হতে থাকা তরঙ্গ প্যাকেটকে আগেভাগে এমন এক আলোক তন্তু-রূপে সাজায় যা দূরে যেতে পারে।
- ফলে তরঙ্গ প্যাকেট এলোমেলোভাবে ছিটকে যায় না; আগে “পেঁচানো আলোক তন্তু” হয়ে, তারপর রিলে-তে ঠেলে দেওয়া হয়—আরও স্থিতিশীল, আরও সোজা, আরও রূপ-নিষ্ঠ।
গঠনগত ভাষায়, পেঁচানো আলোক তন্তু যেন দুটো সংগঠনের “আলিঙ্গন-পুশ”:
- সোজা ঠেলা: প্রচারের দিক বরাবর মূল কঙ্কাল ধারাবাহিকভাবে কপি হয়—“সামনে” নিশ্চিত করে।
- পাশের পাক: নিকট-ক্ষেত্রের ঘূর্ণি টেক্সচার সংগঠনের একটা অংশকে রিং-দিক/ঘূর্ণন-দিকে পেঁচিয়ে দেয়—ফলে তরঙ্গ প্যাকেটে এক ধরনের “হাত-স্বাক্ষর” ঢুকে যায়।
তাই “বাম-ঘূর্ণন/ডান-ঘূর্ণন” সাজসজ্জা নয়; বরং কাঠামোগত আঙুলের ছাপ। নিকট-ক্ষেত্রের কিছু গঠনের কাছে পৌঁছলে সেটাই ঠিক করতে পারে—“দাঁত মিলল, ঢুকল” নাকি “দাঁত মিলল না, সরে গেল”।
সারকথা: আলোক তন্তু হলো কঙ্কাল; আর ‘পেঁচানো’ হলো সেই কঙ্কালকে ঘূর্ণি টেক্সচার নোজল আগেভাগে পাকিয়ে যে ঠেলাঠেলির ভঙ্গি বানায়।
V. রঙ ও শক্তি: রঙ হলো ছন্দের স্বাক্ষর—রঙ করা প্রলেপ নয়; উজ্জ্বলতার দুটো বাটন আছে
এই ভাষায় “রঙ” আর পৃষ্ঠের রঙ-তুলির মতো কিছু নয়; বরং একদম পরিষ্কার সংজ্ঞা: রঙ হলো ছন্দ-স্বাক্ষর।
ছন্দ যত দ্রুত, রঙ তত “নীল-ঘেঁষা”; ছন্দ যত ধীর, তত “লাল-ঘেঁষা”। এটা মানুষের বানানো নিয়ম নয়—কারণ তরঙ্গ প্যাকেটের ভেতরের সংগঠন তার ফেজ-কঙ্কাল ধরে রাখতে ছন্দের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে; ছন্দ যেন তার পরিচয়-সংখ্যা।
কিন্তু দৈনন্দিন ভাষায় “উজ্জ্বল” যেন একটাই জিনিস, আর তরঙ্গ প্যাকেটের ভাষায় অন্তত দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বাটন আছে:
- একেকটা তরঙ্গ প্যাকেট কতটা বহন করে
- প্যাকেট যত “টাইট”, ছন্দ যত বেশি, এক-প্যাকেটের শক্তি-পাঠ তত বেশি—দেখতে আরও “কঠিন” ও আরও উজ্জ্বল লাগে।
- একক সময়ে কতগুলো তরঙ্গ প্যাকেট এসে পৌঁছায়
- এক-প্যাকেট শক্তি একই থাকলেও, প্যাকেট যত ঘন ঘন আসে, উজ্জ্বলতা তত বাড়ে।
একটা গান ভাবুন: আপনি ড্রামের প্রতিটা আঘাত ভারী করতে পারেন, আবার আঘাতের ঘনত্বও বাড়াতে পারেন। দুটোই “জোরে” মনে হয়, কিন্তু যন্ত্রণা আলাদা। পরে “অন্ধকার” আলোচনা করতে গেলে এই ভেদটা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ হবে—অন্ধকার মানে কখনও “প্যাকেট কম আসছে”, কখনও “প্রতি প্যাকেট শক্তি-পাঠ কম”, আর অনেক সময় দুটোই একসাথে।
VI. ধ্রুবণ: আলোক তন্তু শুধু ‘কীভাবে দোলে’ নয়—‘কীভাবে পাক খায়’ও বহন করে
ধ্রুবণকে সবচেয়ে সহজে তীরচিহ্ন দিয়ে আঁকা হয়, এবং ঠিক সেই কারণেই ভুল করে “এক দিকের বল” বলে ধরা হয়। মনে রাখার ভালো ছবি হলো একটা দড়ি: দড়িটা ওপর-নিচে ঝাঁকালে দোল এক সমতলে থাকে; ঝাঁকানোর দিকটা ঘুরিয়ে দিলে দোলটা সামনে এগোনোর দিকের চারদিকে ঘুরতে শুরু করে।
শক্তি তন্তু তত্ত্বের ভাষায় ধ্রুবণ দুই স্তরের পছন্দ:
- কীভাবে দোলে
- তরঙ্গ প্যাকেটের প্রধান দোল-দিক (রৈখিক/উপবৃত্তীয় ধ্রুবণের সহজ প্রবেশদ্বার)।
- কীভাবে পাক খায়
- পেঁচানো আলোক তন্তু-র বাম-পাক বা ডান-পাক (বৃত্তীয় ধ্রুবণের সহজ প্রবেশদ্বার)।
ধ্রুবণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এটা ঠিক করে—আলো আর পদার্থ-কাঠামোর “দাঁত” মেলে কি না। অনেক উপাদান, অনেক নিকট-ক্ষেত্র গঠন নির্দিষ্ট দোল-দিকেই সংবেদনশীল; ধ্রুবণটা চাবির মতো—দাঁত মিললে কপলিং শক্ত, না মিললে যত উজ্জ্বলই হোক, কাঁচের আড়াল থেকে দরজায় ঠোকা—দরজা খোলে না।
এ কারণেই নাম শুনে “উচ্চস্তরের” মনে হওয়া অনেক ঘটনাই আসলে সরল: ধ্রুবণ-নির্বাচন, অপটিক্যাল রোটেশন, বাইরেফ্রিঞ্জেন্স, কাইরাল কপলিং—সবই একই কাহিনি। আলোক তন্তু দোল-ভঙ্গি ও পাক-দিকের কাঠামোগত স্বাক্ষর নিয়ে চলে, পদার্থেরও নিজস্ব কাঠামোগত “এন্ট্রি-পয়েন্ট” থাকে; ঢুকবে কি না, কতটা ঢুকবে—দাঁত-মিলেই ঠিক করে।
VII. ফোটন: বিচ্ছিন্নতা রহস্য নয়—ইন্টারফেস ‘শুধু পুরো মুদ্রা’ই খায়
আলোকে তরঙ্গ প্যাকেট হিসেবে বোঝা মানে আলোর বিচ্ছিন্ন (ডিসক্রিট) লেনদেন অস্বীকার করা নয়। ফোটনকে এভাবে বোঝা যায়: আলো যখন লকিং কাঠামোর সাথে শক্তি বিনিময় করে, তখন বিনিময়যোগ্য সর্বনিম্ন এককটি একটি “মিনিমাম তরঙ্গ প্যাকেট”।
বিচ্ছিন্নতা আসে না “মহাবিশ্ব পূর্ণসংখ্যা পছন্দ করে” বলে; আসে কারণ লকিং কাঠামোর অনুমোদিত মোডগুলো গিয়ার-স্টেপের মতো—শুধু কিছু নির্দিষ্ট ছন্দ-ও-ফেজ কম্বিনেশনই স্থিতিশীলভাবে শোষিত হতে পারে, বা স্থিতিশীলভাবে বেরিয়ে আসতে পারে।
মনে রাখার সহজ উপমা ভেন্ডিং-মেশিন: মেশিনটা খুচরা ঘৃণা করে না; তার শনাক্তকারী ব্যবস্থা কেবল কিছু নির্দিষ্ট মুদ্রা-সাইজই গ্রহণ করে—ইন্টারফেস ‘শুধু পুরো মুদ্রা’ই খায়। শক্তি ধারাবাহিকভাবে থাকতে পারে, কিন্তু কোনো “লক”-এ ঢুকতে হলে গিয়ার-স্টেপে হিসাব চোকাতে হয়।
তাই একই ছবিতে—তরঙ্গ প্যাকেট “প্রচার” বোঝায়, ফোটন “বিনিময়” বোঝায়; একটায় রাস্তা, অন্যটায় লেনদেন—বিরোধ নেই।
VIII. আলো যখন পদার্থের সাথে মেলে: গিলে নেয়, উগরে দেয়, পার করে দেয়; আলো ক্লান্ত হয় না—বুড়ো হয় ‘পরিচয়’
কোনো বস্তুতে আলো পড়লে, শক্তি তন্তু তত্ত্বে আসলে তিনটাই রাস্তা থাকে: গিলে নেওয়া, উগরে দেওয়া, পার করে দেওয়া।
- গিলে নেওয়া
- তরঙ্গ প্যাকেটের ছন্দ কাঠামো “দখল” করে নিয়ে ভিতরের আরও এলোমেলো গতিতে রূপান্তর করে—ফলে তাপমাত্রা বাড়ে।
- “তাপ” মানে ছোট বল এসে ঠোক্কর মারছে নয়; মানে তাল-লয় কাঠামোর ওপর চাপছে, ভিতরের ক্ষুদ্র নড়াচড়াগুলো আরও “ব্যস্ত” হচ্ছে।
- উগরে দেওয়া
- স্থিতি ধরে রাখতে কাঠামো নিজের অভ্যস্ত ছন্দে শক্তি শক্তি সমুদ্র-এ ফিরিয়ে দেয়—তাই রঙ, স্ক্যাটারিং, প্রতিফলন, পুনঃবিকিরণ দেখা যায়।
- সাদা আলো লাল কাপড়ে পড়ে শেষে “শুধু লাল” দেখা যায়—এটা অন্য রঙ হঠাৎ শূন্যে হারিয়ে গেল বলে নয়; কাপড়টা কিছু নির্দিষ্ট ছন্দ-গুচ্ছ “ফিরিয়ে দিতে” বেশি দক্ষ। অন্য ছন্দগুলো হয় গিলে নিয়ে তাপে বদলায়, নয়তো অন্য ছন্দে “পুনর্লিখিত” হয়ে তারপর উগরে যায়।
- পার করে দেওয়া
- কিছু উপাদানে ভিতরের টেক্সচার যথেষ্ট মসৃণ (কাঁচ যেমন), তরঙ্গ প্যাকেট ভিতরের চ্যানেল ধরে রূপ-নিষ্ঠভাবে রিলে হয়ে অন্য পাশে এগিয়ে যেতে পারে—তাই স্বচ্ছতা দেখা যায়।
“ভেদ করে যাওয়া/প্রতিফলিত হওয়া/শোষিত হওয়া”—এগুলো তিনটা নিয়মবই বলে মনে হলেও, আসলে একই “ম্যাচিং সমস্যা”র তিন রকম ফল: ছন্দ মিলছে কি না, ধ্রুবণের দাঁত মেলছে কি না, আর সীমা-শর্ত পার হতে দিচ্ছে কি না।
এরপর একটা ‘মাস্টার কী’ দরকার—পরিচয় পুনর্লিখন।
স্ক্যাটারিং, শোষণ, আর ফেজ-সামঞ্জস্য ভেঙে যাওয়া—শক্তির হিসাবে সবসময় “বড় ক্ষতি” নাও হতে পারে; কিন্তু তথ্য ও চেনা-যাওয়ার হিসাবে ঘটতে পারে বড় ঘটনা: পরিচয় বদলে যায়।
- স্ক্যাটারিং: দিক পুনর্লিখিত হয়; তরঙ্গ প্যাকেট বহু ছোট প্যাকেটে ভেঙে যায়; ফেজ-সম্পর্ক এলোমেলো হয়।
- শোষণ: তরঙ্গ প্যাকেট কাঠামোর মধ্যে ঢুকে যায়; শক্তি ভিতরের চক্রে যায় বা তাপীয় ওঠানামা হয়; পরে নতুন ছন্দ ও নতুন ধ্রুবণে আবার নির্গত হতে পারে।
- ফেজ-সামঞ্জস্য ভাঙন: মানে “তরঙ্গ নেই” নয়; মানে “যে সুশৃঙ্খল ফরমেশন ছিল, সেটা ছড়িয়ে গেল”—অতিক্ষেপ/যোগের সম্পর্ক আর স্থিতিশীলভাবে ট্র্যাক করা যায় না।
একটা সুশৃঙ্খল দলকে কোলাহলপূর্ণ বাজার দিয়ে যেতে ভাবুন: মানুষ হাঁটে, শক্তি থাকে—তবু ফরমেশন, তাল, দিক ছড়িয়ে পড়তে পারে; বেরোলে আর আগের দলটা থাকে না।
এই বাক্যটা তাই ধরে রাখতে হয়: আলো ক্লান্ত হয় না; বুড়ো হয় তার ‘পরিচয়’।
পরে যেসব ক্ষেত্রে “সিগন্যাল উধাও, নয়েজ ফ্লোর ওপরে, দেখতে ম্লান কিন্তু শক্তি যেন পুরোটা কমেনি”—এগুলোকে আগে থেকেই এই ‘পরিচয় পুনর্লিখন’ দিয়ে একসূত্রে ধরা যায়।
IX. ইন্টারফেরেন্স ও ডিফ্র্যাকশন: ছন্দগুলো যোগ হয়, সীমা পথ-নির্বাচন নতুন করে লেখে
দুই আলোকরশ্মি মুখোমুখি ছোড়া হলে তারা গাড়ির মতো ভেঙে চুরমার হয় না কেন? কারণ আলো “বস্তু” নয়—“ক্রিয়া”।
একটা চত্বরে দু’দল মানুষকে দাঁড়িয়ে করতালি দিতে দেখুন: একদল দ্রুত ছন্দে, আরেকদল ধীর ছন্দে। একই বাতাস একসঙ্গে দুটো ছন্দ বহন করে; আপনি শুনবেন দুটো শব্দের যোগ, দল-দলের সংঘর্ষ নয়। শক্তি সমুদ্রে ঠিক তাই: দুই রশ্মি মিললে সমুদ্রটা একসঙ্গে দুই সেট কম্পন-নির্দেশ চালায়, তারপর প্রত্যেক ছন্দকে নিজের দিকেই চালিয়ে দেয়।
এখানে এক বাক্যে সারকথা: আলো হলো ছন্দ—বস্তু নয়; ছন্দ যোগ হয়, সংঘর্ষ হয় বস্তুর।
ইন্টারফেরেন্সের চাবিকাঠি ফেজ-ধারাবাহিকতা: ফরমেশন যত গুছানো, যোগ-বিয়োগ (শক্তি-বৃদ্ধি/হ্রাস) তত স্থিতিশীল; ফেজ এলোমেলো হলে থাকে শুধু গড়-ধাঁচের নয়েজ-জাত যোগ। ডিফ্র্যাকশনটা বেশি করে “সীমা পথ বেছে নেওয়াটাই বদলে দেয়” এমন: তরঙ্গ প্যাকেট ছিদ্র, প্রান্ত, ত্রুটির মুখে পড়লে এগোনোর অক্ষকে বাড়াতে, ঘুরিয়ে নিতে, পুনর্গঠন করতে হয়—ফলে আগে যে আলোক তন্তু খুব সংকীর্ণ ছিল, বাধার পেছনে নতুন বণ্টনে ছড়িয়ে পড়ে।
এটা স্বাভাবিকভাবেই ধারা 1.9-এর “সীমা-মাধ্যমবিজ্ঞান”-এর সাথে মিলে যায়: সীমা কোনো জ্যামিতিক রেখা নয়; রিলে-কে নতুন করে লেখে এমন এক স্তর-চামড়া।
X. এই অংশের সারসংক্ষেপ: আলোকে ‘সরাসরি উদ্ধৃত করার মতো’ মানদণ্ড তালিকায় চেপে ধরা
- আলো আসলে উড়ে যায় না; ক্রিয়াই রিলে হয়ে এগোয়।
- বাস্তব নির্গমন ও গ্রহণ “অসীম তরঙ্গ” নয়, তরঙ্গ প্যাকেট-এর সাথে বেশি মেলে: তরঙ্গ প্যাকেটের মাথা-লেজ আছে, তাই আসা-যাওয়া সংজ্ঞায়িত করা যায়।
- আলোক তন্তু হলো তরঙ্গ প্যাকেটের ফেজ-কঙ্কাল; দূরত্ব নির্ভর করে কঙ্কাল কতটা গোছানো, “উইন্ডো” কতটা মানানসই, আর চ্যানেল কতটা মিলছে—তার ওপর।
- ঘূর্ণি টেক্সচার নোজল/এক্সট্রুডার তরঙ্গ প্যাকেটকে আগে পেঁচানো আলোক তন্তু বানিয়ে, পরে ঠেলে দেয়; বাম-পাক/ডান-পাক হলো কাঠামোগত স্বাক্ষর।
- রঙ = ছন্দ-স্বাক্ষর; উজ্জ্বলতার অন্তত দুটো আলাদা বাটন আছে—প্রতি প্যাকেট “ভারী” হওয়া, বা একক সময়ে “ঘন” হয়ে আসা।
- ধ্রুবণ দুই স্তরের পছন্দ: কীভাবে দোলে, কীভাবে পাক খায়; দাঁত-ম্যাচিং মিলল কি না—এটাই কপলিং শক্তি ঠিক করে।
- ফোটন হলো বিনিময় স্তরের ক্ষুদ্রতম একক: বিচ্ছিন্নতা আসে লকিং কাঠামোর গিয়ার-ধাঁচের অনুমোদিত মোড থেকে, আর ইন্টারফেস ‘শুধু পুরো মুদ্রা’ই খায়।
- আলো-পদার্থ মেলায় তিনটাই রাস্তা: গিলে নেওয়া, উগরে দেওয়া, পার করে দেওয়া; স্ক্যাটারিং/শোষণ/ফেজ-সামঞ্জস্য ভাঙনকে ‘পরিচয় পুনর্লিখন’ হিসেবে একসাথে ধরা যায়—আলো ক্লান্ত হয় না, বুড়ো হয় পরিচয়।
- ইন্টারফেরেন্স ও ডিফ্র্যাকশন রহস্য নয়: ছন্দ যোগ হয়, সীমা পথ-নির্বাচন নতুন করে লেখে; আলো ছন্দ—বস্তু নয়।
XI. পরের অংশ কী করবে
পরের অংশ দুটো রেখাকে এক রেখায় মিলিয়ে দেবে: একদিকে “আলো হলো লকিং-এ না-যাওয়া তরঙ্গ প্যাকেট”, অন্যদিকে “কণা হলো লকিং-এ যাওয়া কাঠামো”। একসাথে করলে বড় ছবি আরও পরিষ্কার হয়: আলো আর কণা একই শেকড়ের, তরঙ্গধর্মও একই উৎসের।所谓 তরঙ্গ-কণা দ্বৈততা তখন বেশি করে এক জিনিসের দুটো পাঠ—“পথে” সে তরঙ্গের মতো চলে, আর “লেনদেনের মুহূর্তে” থ্রেশহোল্ড ধরে খাতা-কলমে হিসাব হয়।
কপিরাইট ও লাইসেন্স: আলাদা করে উল্লেখ না থাকলে, “শক্তি তন্তু তত্ত্ব” (টেক্সট, চার্ট, চিত্র, প্রতীক ও সূত্রসহ)–এর কপিরাইট লেখক (屠广林)–এর।
লাইসেন্স (CC BY 4.0): লেখক ও উৎস উল্লেখ করলে কপি, পুনঃপ্রকাশ, অংশবিশেষ, রূপান্তর এবং পুনর্বিতরণ অনুমোদিত।
অ্যাট্রিবিউশন (প্রস্তাবিত): লেখক: 屠广林|কর্ম: “শক্তি তন্তু তত্ত্ব”|উৎস: energyfilament.org|লাইসেন্স: CC BY 4.0
যাচাইয়ের আহ্বান: লেখক স্বাধীন ও স্ব-অর্থায়িত—কোনো নিয়োগকর্তা নেই, কোনো পৃষ্ঠপোষকতাও নেই। পরবর্তী ধাপে আমরা দেশ-সীমা ছাড়াই এমন পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেব যেখানে প্রকাশ্য আলোচনা, প্রকাশ্য পুনরুত্পাদন এবং প্রকাশ্য সমালোচনা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে মিডিয়া ও সহকর্মীদের এই সময়ে যাচাই আয়োজন করতে এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানাই।
সংস্করণ তথ্য: প্রথম প্রকাশ: 2025-11-11 | বর্তমান সংস্করণ: v6.0+5.05