সূচিপত্র / শক্তি তন্তু তত্ত্ব (V6.0)
I. রিলে কোনো অলংকার নয়—দুটি স্বতঃসিদ্ধ থেকে বের হওয়া কাজের নিয়ম
আগেই দুইটি স্বতঃসিদ্ধ দাঁড় করানো হয়েছে: শূন্যস্থান খালি নয়—এটা শক্তি সমুদ্র; কণা কোনো বিন্দু নয়—শক্তি সমুদ্র এর ভেতরে নিজে থেকে টিকে থাকতে পারে এমন তন্তু কাঠামো। এর সঙ্গে আরেকটা খুব সাধারণ কিন্তু একদম কঠোর শর্ত জুড়লেই—পারস্পরিক ক্রিয়া অবশ্যই স্থানীয় হতে হবে (হস্তান্তর কেবল পাশাপাশিই ঘটবে; দূর থেকে লাফ দিয়ে “হঠাৎ চলে যাওয়া” নয়)—একটা প্রায় এড়ানো-অযোগ্য সিদ্ধান্ত সামনে আসে: প্রচার কেবল রিলে প্রচার হিসেবেই ঘটতে পারে।
এখানে “রিলে” শব্দটা কানে ভালো শোনানোর জন্য নয়; এটা সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়ার নাম। সমুদ্রের এক ছোট অংশের অবস্থা বদলালে, পাশের ছোট অংশটাকে বদলাতে ঠেলে দেয়; পাশেরটা আবার আরও পাশেরটাকে ঠেলে দেয়; ফলে পরিবর্তন ঢেউয়ের মতো সামনে এগোয়। সামনে এগোয় “পরিবর্তনের ছাঁচ”—“একই পদার্থের টুকরা” নয়।
II. রিলের ন্যূনতম সংজ্ঞা: তিনটি বাক্যই যথেষ্ট
“রিলে” যদি শুধু উপমা হতো, পরের অংশের কঠোর আলোচনাকে তা টিকিয়ে রাখতে পারত না। তাই এখানে ন্যূনতম, বারবার ব্যবহারযোগ্য সংজ্ঞা দেওয়া হলো:
- রিলে অবশ্যই অবিচ্ছিন্ন তলে ঘটতে হবে: তল না থাকলে হস্তান্তরের জায়গাই নেই।
- রিলের প্রতিটি ধাপ কেবল স্থানীয় তথ্য ব্যবহার করে: এই বিন্দু শুধু নিকটবর্তীটা দেখে ঠিক করে পরের বিন্দু কীভাবে সাড়া দেবে।
- রিলে এগিয়ে দেয় “ছাঁচ”: এগিয়ে দেয় আকার, ফেজ, ছন্দ—একই পদার্থের টুকরা নয়।
এই তিনটি বাক্য মনে রাখলেই একটা বহুল ভুল বোঝাবুঝি সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হয়: তারা থেকে চোখে যা আসে তা “একই জিনিস” নয়; উৎসে সেই একবারের কাঁপুনির ছন্দ এখানে আবার নকল হয়ে ওঠে।
III. “বহন” থেকে “রিলে”: দৌড়ায় পরিবর্তন, বস্তু নয়
সবচেয়ে সহজে যে স্বতঃবোধটা আটকে দেয়, তা হলো: যদি কোনো ঘটনা A থেকে B-তে পৌঁছায়, তবে নিশ্চয়ই একটা “বস্তু” A থেকে B-তে উড়ে গেছে। পাথর ছুঁড়লে এ ভাবনা খাটে, কিন্তু প্রচারের ঘটনায় প্রায়ই খাটে না। রিলের মূল ‘পেরেক’ একটাই: দৌড়ায় পরিবর্তন, বস্তু নয়।
এই কথাটা পোক্ত করে ধরতে সবচেয়ে স্থির তিনটি উপমা হলো:
- স্টেডিয়ামের মানব-ঢেউ
- ঢেউ এক চক্কর দেয়, কিন্তু গ্যালারির মানুষ দল বেঁধে একদিকে সরে যায় না।
- যা এগোয় তা “দাঁড়ানো—বসা” ক্রিয়ার ছাঁচ।
- সারি বেঁধে কাঁধে টোকা
- এক সারি মানুষ স্থির থাকে; বাঁদিক থেকে কাঁধে টোকা শুরু হয়, টোকা পড়লেই পরের জনকে ‘পাস’ হয়ে যায়।
- ডানদিকের শেষ মানুষ অনুভব করে “তথ্য এসে গেছে”, কিন্তু কেউই বাঁ থেকে ডানে হাঁটে না।
- ডোমিনো
- পড়ে যাওয়ার ক্রিয়া সারি ধরে দৌড়ায়; প্রতিটি ডোমিনো শুধু নিজের পড়াটাই “করে”।
- যা ছড়ায় তা “পড়ে-যাওয়া অবস্থা”, কোনো ডোমিনোর পদার্থ সামনে উড়ে যাওয়া নয়।
শক্তি তন্তু তত্ত্ব আলো, তরঙ্গ, সংকেত—এবং এমনকি বহু এমন বাহ্যচেহারা যেগুলো “দূর-প্রভাব” বলে মনে হয়—সবার ব্যাখ্যায় প্রথমে এই পথটাই বেছে নেয়: কোনো সত্তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া নয়; শক্তি সমুদ্র এর মধ্যে পরিবর্তনকে ধাপে ধাপে নকল হতে দেওয়া।
IV. রিলে আসলে কী হস্তান্তর করে: হস্তান্তর করে “সমুদ্র অবস্থা-ফারাক”
শক্তি সমুদ্র ভাষায়, প্রতিটি স্থানের সঙ্গে একটি সমুদ্র অবস্থা জোড়া থাকে: ঘনত্ব, টান, টেক্সচার, ছন্দ। “একটা ঘটনা ঘটল” কথাটা অনেক সময় মানে—এই সমুদ্র অবস্থা স্থানীয়ভাবে একটু সরে গেল (একটু বেশি কষা, একটু বেশি ঢিলা, একটু বেশি পাকানো, বা ছন্দের ছাঁচ একটু বদলে গেল)।
রিলে প্রচার যে জিনিসটা বয়ে আনে, সেটাই এই “ভিত্তিস্তর থেকে সরে যাওয়ার পার্থক্য”। একে ছবির পিক্সেল হিসেবে ভাবা যায়: ছবি বাঁ থেকে ডানে দেখা দেয়—তার মানে বাঁদিকের পিক্সেল ডানে টেনে নেওয়া নয়; ডানদিকের পিক্সেল একই আলোক-অন্ধকার পরিবর্তন “কপি” করে।
ভৌত ভাষায় এই “পার্থক্য” স্থানচ্যুতি, ফেজ, স্ট্রেস, ছন্দের পক্ষপাত—বিভিন্ন রূপে দেখা দিতে পারে; কিন্তু মূল কথা একটাই: প্রচার বহন করে অবস্থার পার্থক্য, পদার্থের খণ্ড নয়।
এটাই “আলো” সম্পর্কে কল্পনাকে সরাসরি বদলে দেয়: আলো বেশি করে সীমিত দৈর্ঘ্যের সমুদ্র অবস্থা-ফারাক যা সামনে ঠেলে এগোয়, পুরো পথ জুড়ে উড়ে চলা ছোট বল নয়।
V. শক্তি ও তথ্য: রিলের ভেতর একই জিনিসের দুই মুখ
অনেকেই শক্তিকে এক ধরনের “বস্তু” আর তথ্যকে আরেক ধরনের “বস্তু” ভাবেন। রিলে দৃষ্টিভঙ্গি দুইটাকেই আরও সহজ করে: শক্তি আর তথ্য দুইটা অসংযুক্ত জিনিস নয়; বরং একই “সমুদ্র অবস্থা-ফারাক”-এর দুইটা মুখ।
- শক্তি বেশি করে “পরিবর্তনের তীব্রতা”
- মানব-ঢেউয়ে যত জোরে হাত ওঠে, ঢেউ তত “উঁচু” মনে হয়।
- পানির উপর যত ভারী আঘাত, ঢেউ তত বড়।
- সমুদ্র অবস্থা ভাষায়: ভিত্তিস্তর থেকে বিচ্যুতি যত বড়, সেই বিচ্যুতিতে সঞ্চিত শক্তি তত বেশি।
- তথ্য বেশি করে “পরিবর্তনের নকশা”
- একই তীব্রতার মানব-ঢেউ “একবার দাঁড়ানো”ও হতে পারে, “দুবার দাঁড়ানো”ও হতে পারে, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ছন্দে দাঁড়ানোও হতে পারে।
- তীব্রতা কাছাকাছি, কিন্তু নকশা আলাদা—তাই পৌঁছে যে অর্থ প্রকাশ করে তাও আলাদা।
- মোর্স কোড তার আদর্শ উদাহরণ: শক্তি খুব কম হতে পারে, কিন্তু ছন্দের কাঠামো পরিষ্কার হলে তথ্য খুব জোরালোভাবে বহন হয়।
- শক্তি ও তথ্য আংশিকভাবে আলাদা হতে পারে
- একই শক্তির তরঙ্গ প্যাকেট ভিন্ন মডুলেশন দিয়ে ভিন্ন তথ্য বহন করতে পারে।
- একই তথ্য আরও শক্তিশালী বা আরও দুর্বল তরঙ্গ প্যাকেট দিয়ে বহন করা যায়।
তাই পরে যখন শোষণ, বিচ্ছুরণ, আর ডিকোহেরেন্স নিয়ে আলোচনা হবে, একটা বাক্য আগে থেকেই ‘পেরেক’ দিয়ে আটকে রাখতে হয়: শক্তি সব সময় হারিয়ে যায় না; পরিচয় বদলে লেখা যেতে পারে। এখানে “পরিচয়” বলতে বোঝায়—তরঙ্গ প্যাকেট যে ভাবে নিজের বহন করা তথ্য গুছিয়ে রাখে (ছন্দ, ফেজ-সম্পর্ক, ধ্রুবণ/ঘূর্ণনের দিক, মডুলেশনের কাঠামো ইত্যাদি)। শক্তি থাকতে পারে কিন্তু ‘ভরকেন্দ্র’ বদলাতে পারে; তথ্য থাকতে পারে কিন্তু এনকোডিং বদলাতে পারে; আবার ভেঙে ছড়িয়েও যেতে পারে।
VI. তরঙ্গ ও তরঙ্গ প্যাকেট: বাস্তব প্রচার “পরিবর্তনের প্যাকেট”—অসীম সাইন নয়
পাঠ্যবইয়ে প্রায়ই অসীম লম্বা সাইন তরঙ্গ আঁকা হয়, কিন্তু বাস্তব দুনিয়ায় অধিকাংশ “একবারের নিঃসরণ” সীমিত ঘটনা: টেবিলে একবার টোকা, একবার আলো ঝলক, একবার বজ্রধ্বনি, একবার পালস যোগাযোগ—সব কিছুরই শুরু আছে, শেষ আছে।
তাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেশি মেলে “অসীম সাইন” নয়, বরং তরঙ্গ প্যাকেট—একটা সীমিত দৈর্ঘ্যের, মাথা-লেজসহ পরিবর্তনের প্যাকেট। তরঙ্গ প্যাকেটের গঠন এভাবে মনে রাখা যায়:
- মাথা “ভিত্তিস্তর থেকে বিচ্যুতি” সামনে নিয়ে যায়।
- লেজ ব্যবস্থা/সিস্টেমকে ভিত্তিস্তরে ফিরিয়ে আনে, বা নতুন ভারসাম্যে পৌঁছে দেয়।
- তরঙ্গ প্যাকেট এর ভেতরে নিজের সূক্ষ্ম বুনন থাকতে পারে (ছন্দ, মডুলেশন, ঘূর্ণনের দিক), যা তথ্য বহন করে।
প্রচারকে তরঙ্গ প্যাকেট হিসেবে বুঝলে, পরের অনেক ঘটনা আপনাআপনি সহজ হয়ে যায়: কেন সংকেতে বিলম্ব থাকে, কেন মাঝপথে কাটা যায়, কেন বিকৃতি হয়, কেন যোগ হয় আবার ডিকোহেরেন্স-ও হয়, আর কেন কোনো মাধ্যম তাকে “পুনর্লিখন” করতে পারে।
VII. রিলের তিন ধরন: নগ্ন রিলে, ভার-বহনকারী রিলে, কাঠামোগত রিলে
নাম একটাই “রিলে”, কিন্তু বাস্তবে “বোঝার স্তর” এক নয়। খুব সহজ উপমা: কেউ খালি হাতে খবর পৌঁছালে দ্রুত, কেউ ভারী বোঝা কাঁধে নিলে ধীর—রিলেতেও তাই। যত বেশি কিছু টানতে হয়, হস্তান্তর তত ভারী, ঊর্ধ্বসীমা তত কম, আর ক্ষয়ক্ষতি তত চোখে পড়ে।
- নগ্ন রিলে
- হস্তান্তর মূলত শক্তি সমুদ্র এর মধ্যে সম্পন্ন হয়; বড় কাঠামো টেনে নিতে হয় না।
- স্থানীয় হস্তান্তর-ঊর্ধ্বসীমার কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
- পরে আলোর বেগ আর সময় নিয়ে কথা উঠলে, আলোকে এই শ্রেণির আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ধরা হবে।
- ভার-বহনকারী রিলে
- প্রচারের সময় মাধ্যমের বৃহৎ-স্কেলের সংগঠনকেও একসাথে টানতে হয়; হস্তান্তর বেশি ভারী, গতি ধীর, ক্ষয়ও বড়।
- বাতাস বা কঠিন পদার্থে শব্দের প্রচার সবচেয়ে সহজ উদাহরণ: অণুর বিন্যাস টানতে হয় বলেই তা অনেক ধীর।
- কাঠামোগত রিলে
- কোনো “কণার কাঠামো” যখন স্থানে সরতে থাকে, সেটাকেও এক ধরনের রিলে হিসেবে পড়া যায়।
- নড়ে না “সমুদ্রের একই টুকরা”; বরং অবিচ্ছিন্ন মাধ্যমে “লকিং কাঠামো”-এর ছাঁচ বারবার অবস্থান পুনর্গঠন করে।
- এতে “বস্তুর গতি” আর “তরঙ্গের প্রচার” একই ভাষায় ফিরে আসে: দুটোই সমুদ্রে স্থানীয় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এগোনো কাঠামো।
- পার্থক্যটা কেবল রূপে: একদিকে স্থিত কাঠামোর স্থানান্তর, অন্যদিকে লকিং না-হওয়া তরঙ্গ প্যাকেট এর অগ্রসরতা।
এই অংশের মূল্য এখানে: “আলো কীভাবে চলে, শব্দ কীভাবে চলে, বস্তু কীভাবে চলে”—এই তিনটা আলাদা স্বতঃবোধকে আবার একটাই রিলে ব্যাকরণে চাপিয়ে আনে।
VIII. রিলে প্রচার যে তিনটি অনিবার্য ফল আনে: ঊর্ধ্বসীমা, পুনর্লিখন, দিকনির্দেশনা
রিলে প্রচার গ্রহণ করলেই স্বাভাবিকভাবে তিনটি ফল সামনে আসে—এগুলোই পুরো বই জুড়ে বারবার ফিরে আসবে।
- স্থানীয় হস্তান্তর-ঊর্ধ্বসীমা আছে
- প্রতিটি হস্তান্তরে সময় লাগে; যতই ঝকঝকে হোক, তা মুহূর্তে শেষ হয় না।
- তাই প্রচারের অবশ্যই ঊর্ধ্বসীমা থাকে; এই ঊর্ধ্বসীমা আগে পড়তে হয় “হস্তান্তর কতটা ঝরঝরে”: টান যত কষা, হস্তান্তর তত ঝরঝরে, রিলে তত দ্রুত, ঊর্ধ্বসীমা তত উঁচু; টান যত ঢিলা, ঊর্ধ্বসীমা তত নিচু।
- স্কেল গুলিয়ে ফেললে চলে না: টান যত কষা, অন্তর্নিহিত ছন্দ তত ধীর (ধীর ছন্দ); কিন্তু প্রচারের ঊর্ধ্বসীমা উল্টো আরও উঁচু (দ্রুত হস্তান্তর)—এই জোড়া সম্পর্ক পরে আলোর বেগ আর মহাজাগতিক লাল সরণ প্রসঙ্গে বারবার আসবে।
- প্রচারে “পরিচয় বদল” ঘটতে পারে
- তরঙ্গ প্যাকেট রিলের পথে শোষিত হতে পারে, বিচ্ছুরিত হতে পারে, ভেঙে যেতে পারে, বা পুনরায় এনকোড হতে পারে।
- শক্তি থাকতে পারে কিন্তু ‘ভরকেন্দ্র’ বদলাতে পারে; তথ্য থাকতে পারে কিন্তু এনকোডিং বদলাতে পারে; আবার ভেঙে ছড়িয়েও যেতে পারে।
- তাই “অন্ধকার হওয়া” সব সময় “শক্তি হঠাৎ শূন্যে মিলিয়ে গেল” নয়; বেশি দেখা যায়—শক্তি অন্য কোনো কাঠামোতে বা পটভূমি নয়েজে শোষিত হয়ে যায়, কিংবা তরঙ্গ প্যাকেট এর কোহেরেন্স কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রচার টেক্সচার ও সীমানা দ্বারা ‘পথনির্দেশিত’ হয়
- সমুদ্রে টেক্সচার থাকলে, সেটা যেন আড়াল-স্রোত আর রাস্তা আছে—এমন।
- সমুদ্রে টান প্রাচীর আর করিডর দেখা দিলে, সেটা যেন বাঁধ আর তরঙ্গনির্দেশক দেখা দিল—এমন।
- ফলে প্রচার শুধু “বাইরে ছড়ানো” নয়; ঘনীভবন, বেঁকে যাওয়া, সমান্তরাল হওয়া, আর চ্যানেল ধরে যাওয়ার মতো চেহারাও দেখা দেয়।
- পরে যখন জেট, চরম পরিস্থিতি, আর মহাবিশ্বের গঠন নিয়ে কথা হবে, এই পয়েন্টটাই হবে মূল সেতু।
সবকিছু এক লাইনে বেঁধে রাখার জন্য “স্মৃতির পেরেক” হলো: রিলে অনিবার্যভাবে ঊর্ধ্বসীমা আনে, রিলে অনিবার্যভাবে পুনর্লিখন আনে, রিলে অনিবার্যভাবে দিকনির্দেশনা আনে।
IX. রিলে কীভাবে “আলো একে অন্যকে ভেদ করে যাওয়া” আর “হস্তক্ষেপমূলক যোগফল” পরিষ্কার করে (পরের অংশের জন্য ভূমিকা)
রিলে দৃষ্টিভঙ্গি সঙ্গে সঙ্গেই একটা স্বতঃবোধগত সংঘর্ষ ব্যাখ্যা করে: দুটি আলোর রশ্মি মুখোমুখি হলে, কেন তারা দুইটা গাড়ির মতো ধাক্কা খায় না?
কারণ আলো কোনো কঠিন বস্তু উড়ে যাওয়া নয়; এটা ছাঁচের উপর ছাঁচ বসা। একই স্থানে শক্তি সমুদ্র একসঙ্গে দুই সেট কাঁপুনির নির্দেশ “চালাতে” পারে—যেমন বাতাস একসঙ্গে দুই ধরনের শব্দের ছন্দ বহন করতে পারে।
ফেজ-সম্পর্ক যথেষ্ট গোছানো হলে, যোগফল স্থিরভাবে বৃদ্ধি ও বাতিল—দুইটাই তৈরি করে; এটাই হস্তক্ষেপ। ফেজ যদি নয়েজে ছড়িয়ে যায়, বাকি থাকে শুধু গড় করা যোগফল—এটাই ডিকোহেরেন্স।
এই অংশে দ্বি-ছিদ্র পুরোটা শেষ করার দরকার নেই; কিন্তু “যোগফল সম্ভব কেন” সেটা পরিষ্কার করা দরকার: একই অবিচ্ছিন্ন তল বহু ছাঁচকে একসঙ্গে অস্তিত্ব রাখতে দেয়, এবং একসঙ্গে এগোতেও দেয়।
X. এই অংশের সারসংক্ষেপ: এক বাক্যে প্রচারকে একীভূত করা
প্রচার মানে “বস্তু”কে এখানে থেকে সেখানে বয়ে নেওয়া নয়; প্রচার মানে অবিচ্ছিন্ন মাধ্যমে সমুদ্র অবস্থা-ফারাককে ধাপে ধাপে হস্তান্তর করা। এই কাঠামোতে চারটি ছোট বাক্য সরাসরি উদ্ধৃত করা যায়:
- শক্তি হলো ভিত্তিস্তর থেকে বিচ্যুতির তীব্রতা।
- তথ্য হলো ভিত্তিস্তর থেকে বিচ্যুতির নকশা।
- তরঙ্গ প্যাকেট হলো একবারের প্রচার-ঘটনার স্বাভাবিক একক।
- ঊর্ধ্বসীমা, পুনর্লিখন ও দিকনির্দেশনা—এগুলো রিলে প্রক্রিয়ার অনিবার্য ফল।
XI. পরের অংশে কী করা হবে
পরের অংশ “ক্ষেত্র” ধারণাটাকে বিমূর্ত বিশেষ্য থেকে নামিয়ে ব্যবহারযোগ্য মানচিত্রে আনবে: ক্ষেত্র কোনো অতিরিক্ত সত্তা নয়; ‘শক্তি সমুদ্র’কে বোঝাতে যে সমুদ্র অবস্থা মানচিত্র লাগে, সেটাই ক্ষেত্র। রিলে কীভাবে এগোয়, কাঠামো কীভাবে পথ বেছে নেয়, কোথায় দিকনির্দেশনা হয়, আর কোথায় পুনর্লিখন হয়—সবই এই সমুদ্র অবস্থা মানচিত্রে পড়ে নিতে হবে।
কপিরাইট ও লাইসেন্স: আলাদা করে উল্লেখ না থাকলে, “শক্তি তন্তু তত্ত্ব” (টেক্সট, চার্ট, চিত্র, প্রতীক ও সূত্রসহ)–এর কপিরাইট লেখক (屠广林)–এর।
লাইসেন্স (CC BY 4.0): লেখক ও উৎস উল্লেখ করলে কপি, পুনঃপ্রকাশ, অংশবিশেষ, রূপান্তর এবং পুনর্বিতরণ অনুমোদিত।
অ্যাট্রিবিউশন (প্রস্তাবিত): লেখক: 屠广林|কর্ম: “শক্তি তন্তু তত্ত্ব”|উৎস: energyfilament.org|লাইসেন্স: CC BY 4.0
যাচাইয়ের আহ্বান: লেখক স্বাধীন ও স্ব-অর্থায়িত—কোনো নিয়োগকর্তা নেই, কোনো পৃষ্ঠপোষকতাও নেই। পরবর্তী ধাপে আমরা দেশ-সীমা ছাড়াই এমন পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেব যেখানে প্রকাশ্য আলোচনা, প্রকাশ্য পুনরুত্পাদন এবং প্রকাশ্য সমালোচনা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে মিডিয়া ও সহকর্মীদের এই সময়ে যাচাই আয়োজন করতে এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানাই।
সংস্করণ তথ্য: প্রথম প্রকাশ: 2025-11-11 | বর্তমান সংস্করণ: v6.0+5.05